ওয়াও এয়ার স্ট্রাইক মিশন এর ডে-২
তুমি গতকাল মোটামুটি একটা রেজুমিও বানিয়ে ফেলছো। ফকিরা হোক। খারাপ হোক। বানিয়ে কিন্তু ফেলছো কিন্তু। এবং গরূপে বেশ কিছু ডাইরেক্ট বা ইনডাইরেক্ট ফিডব্যাক তুমি পাইছো। সেটা হতে পারে তোমার রেজুমিতে কেউ দিছে। বা অন্য কারো রেজুমিতে অন্য কেউ ফিডব্যাক দিছে। সেখান থেকেও ইন্ডাইরেক্টলি তুমি কিছু ফিডব্যাক পেয়েছো। অথাৎ রেজুমি সম্পর্কে তোমার একটা ধারণা তৈরি হয়েছে। কিভাবে রেজুমি এর মধ্যে কী কী তথ্য দিতে হয় সেগুলাও তুমি এখন জানো। সেটার উপর ভিত্তি করেই তোমার আজকের কাজগুলো খুবই সিম্পল।
.
টাস্ক-১: ফিনিশ দ্য রেজুমি
আজকে প্রথম কাজই হচ্ছে-- তোমার রেজুমি ফাইনালাইজ করা। যাতে সেটা ভালো মানের রেজুমি হয়। সেটার মধ্যে কিছু জিনিস মাস্ট ধরে ধরে চেক করবে। কারণ এইটাই তুমি বিভিন্ন জায়গা তে দিবে। এবং এইটা দেখেই বিভিন্ন লোকজন ডিসিশন নিবে তারা তোমাকে ডাকবে কি ডাকবে না। তাই রেজুমি এর ব্যাপারে সিরিয়াস হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রেজুমি ফাইনাল করার আগে নিচের জিনিসগুলো মাস্ট চেক করে নিবে।
১. তুমি ভালো/প্রফেশনাল একটা ইমেইল এড্রেস ইউজ করছো কিনা
২. তোমার সার্টিফিকেট এর নাম (কোন ডাকনাম রেজুমিতে দেয়া যাবে না)
৩. তোমার ব্যক্তিগত তথ্য ইমেইল, ফোন নাম্বার এইগুলা ঠিক আছে কিনা
৪. রেজুমিতে কেউ ছবি দেয় না। তাই কোন ছবি দিতে চাইলেও সেটা রিমুভ করে দাও
৫. রেজুমিতে তোমার স্কিল এর সামারি থাকলে ভালো হয়। যদিও এইটা কেউ কেউ দেয় আবার কেউ কেউ দেয় না। তবে আমি রিকমেন্ড করে সেটা দাও। ভালো হবে। আর তুমি না দিতে চাইলে সেটা স্কিপ করতে পারো
৬. মিনিমাম ৩টা প্রজেক্ট তোমার রেজুমিতে দিছো কিনা। তিনটা বা চারটা প্রজেক্ট রেজুমিতে দিতে পারবে। তবে তিনটার কম বা চারটার বেশি না দিলেই ভালো।
৭. প্রত্যেকটা প্রজেক্ট এর জন্য মিনিমাম তিনটা বুলেট পয়েন্ট থাকতে হবে। সেই প্রজেক্ট এর মেইন মেইন ফিচারগুলো ভালো করে লিখতে হবে। বুলেট পয়েন্ট মিনিমাম ২ টা হতে পারবে। আর সর্বোচ্চ চারটা হতে পারে। কেউ কেউ বুলেট পয়েন্ট না দিতে চাইলে প্যারাগ্রাফ হিসেবে তিন থেকে চার লাইন লিখতে পারবে। তবে কোন অবস্থাতেই ৮-১০ লাইন বা তার বেশি বর্ণনা লেখা যাবে না।
৮. প্রত্যেকটা প্রজেক্ট এর সাথে অবশ্যই অবশ্যই লাইভ সাইট এর লিংক দিতে হবে। তার সাথে সাথে গিটহাব এর কোড এর লিংক মাষ্ট দিতে হবে।
৯. তোমার শিক্ষাগত যোগ্যতা (যদি দিতে চাও) তাহলে প্রজেক্ট গুলার পরে দিবে।
১০. কোন লিডারশিপ বা কো-কারিকুলার একটিভিটি থাকলে সেটা সবার নিচে ছোট করে দিবে। (ক্রিকেট খেলি, ঘুরতে ভালোবাসি এইগুলা না দিলেই ভালো )
১১. তোমার আগের কোন অভিজ্ঞতা যেটা আইটি সেক্টর বা প্রোগ্রামিং, প্রোগ্রামিং কনটেস্ট, প্রজেক্ট, ফ্রিল্যান্সিং অর্থাৎ আগের কোন কাজ সেটা প্রোগ্রামিং বা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর সাথে মিল যায় সেটা দিতে পারো।
১২. চেষ্টা করবে মাল্টি কলাম এভোয়েড করতে। অযথা কালার ইউজ করা থেকে বিরত থাকো। করলে খুব অল্প পরিমানে করতে পারবে। অপ্রয়োজনীয় আইকন, গ্রাফ, চার্ট এইগুলা থেকে বিরত থাকো।
১৩. অবশ্যই grammarly দিয়ে তোমার resume এর ইংরেজি চেক করবে
১৪. কোন অবস্থাতেই কোন একটা রেজুমি এর ফরম্যাট বা স্টাইল ডাইরেক্ট কপি করতে যেও না। তাহলে অন্যরাও কপি করলে সেইম-টু-সেইম হয়ে যাবে। তখন ধরা খেয়ে যাবে। একটু কষ্ট হলেও কোন একটা রেজুমি থেকে একটা পার্ট বা একটা স্ট্রাইল নিবে। আরেকটা রেজুমি থেকে আরেকটা পার্ট নিবে। তারপর কয়েকটা রেজুমি থেকে কয়েকটা পার্ট নিয়ে তোমার ইউনিক একটা রেজুমি হয়ে যাবে।
.
টাস্ক-২:
জব হান্টিং ব্যাটেলফিল্ড এ একটা বড় অস্র হচ্ছে ইমেইল। মোটামুটি ৬০-৭০% জব এর এপ্লিকেশন ইমেইল দিয়ে করতে হয়। তাই ইমেইল এ জব এর জন্য এপ্লাই করার সিস্টেমটা প্রাকটিস করা অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য প্রথমেই ইমাজিন করে নাও। কোন একটা ইমেইলে এড্রেস তোমাকে দিয়ে বলা হয়েছে এরা "জুনিয়র রিএক্ট ডেভেলপার" বা "ওয়েব ডেভেলপার" বা "ফ্রন্ট এন্ড ডেভেলপার" খুজতেছে সেখানে তোমার রেজুমি ইমেইল করতে। এখন তুমি কি করবে?
অবশ্যই একটু গুছিয়ে ইমেইল লিখবে। প্রশ্ন হচ্ছে সেই ইমেইলের সাবজেক্ট কি হবে। ভিতরে কি লিখবো। নাকি জাস্ট ব্ল্যাঙ্ক একটা ইমেইল পাঠিয়ে দিবো শুধু ইমেইল এটাচ করে !!!
উত্তর হচ্ছে অবশ্যই না। একটু সিরিয়াসলি গুছিয়ে ইমেইল পাঠাতে হবে। সেটার জন্য একটু গুগলে সার্চ দাও। কিভাবে রেজুমি এটাচ করে ইমেইল পাঠাতে হয়। জাস্ট গুগল সার্চ দিলেই হয়--how to send job application email সেখানে বেশ কয়েকটা উদাহরণ পাবে। তারপর সেগুলা তোমার মতো করে চেইঞ্জ করে নিবে। আমি নিচে কয়েকটা উদাহরণ দিয়ে দিচ্ছি। (জাস্ট তোমাকে ধারণা দেয়ার জন্য উদাহরণ দিচ্ছি। তুমি তোমার মতো করে চেইঞ্জ করে নিবে )
Ananta Jalil – Applying for the Junior React Developer Position
বা
Applying for the Junior React Developer Position- with 5+ Project experience
বা
Resume for for the Junior React Developer Position- 4 real-world Project experience
অর্থাৎ কোন পজিশনের জন্য এপ্লাই করতেছো সেটা অবশ্যই থাকবে। তার সাথে কিছু একটা যোগ করে দিবে। তুমি তোমার মতো করে চেইঞ্জ করে।
তারপর প্রশ্ন হচ্ছে ইমেইলের ভিতরে কি লিখবে?
উত্তর হচ্ছে---
১. কোন কিছু লেখার আগেই ধাপ করে রেজুমি এটাচ করে ফেলবে। আগেই মাস্ট রেজুমি এটাচ করে ফেলবে। যদি জব অনুসারে রেজুমি কিছু মডিফাই করা লাগে সেটা করে সাথে সাথে রেজুমি এটাচ করে ফেলবে। নচেৎ ২০-৩০% কেইসে দেখা যায়। ইমেইল পাঠায় দিছো মাগার রেজুমি এটাচ করো নাই। জিনিসটা একটু আনপ্রোফেশনাল হয়ে যায়।
২. সেকেন্ড মোস্ট ইম্পরট্যান্ট কাজ হচ্ছে ইমেইলের প্রথমেই এক বা দুই লাইনে লিখবে-- এই জব সার্কুলার তুমি কোথায় পাইছো। হয় তাদের ওয়েবসাইট এ বা কোন জব পোর্টাল এ বা কোন ফেইসবুক গরূপে বা কেউ রেফার করসে।
৩. কেন তুমি এই চাকরির জন্য পারফেক্ট সেটা ৪-৫ লাইনে ছোট একটা প্যারাগ্রাফ বা একটু কথা আর ৩টা বুলেট পয়েন্ট দিয়ে লিখবে।
৪. লাস্টের দিকে বলে দিবে তুমি ওদের কাছ থেকে শুনতে চাও। বা কোন স্যাম্পল কাজ থাকলে সেটা করে দিতে পারবে। অর্থাৎ যতভাবে তুমি তোমার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারো সেটা ৩-৪ লাইনে বলে দিবে।
৫. একদম নিচের দিকে থাকবে তোমার ইমেইলের সিগনেচার। অর্থাৎ তোমার নাম, তোমার ফোন নাম্বার, তোমার লিংকডইন প্রোফাইল (যদি থাকে), তোমার গিটহাব, তোমার পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট এর লিংক। একটু গুছিয়ে
.
যদি বেশিরভাগ ব্লগ এ একটু বড় ইমেইল লেখার কথা বলে। আমি ব্যক্তিগতভাবে একটু মাঝারি বা ছোট সাইজের টু দ্য পয়েন্টে লিখতে প্রেফার করি।
.
টাস্ক-৩:
তুমি মেইন কোর্স করার সময় তুমি গিটহাব এ প্রত্যেকটা প্রজেক্ট এর জন্য জন্য readme ফাইলে কিছু তথ্য লিখছিলা। সেগুলা আবার চেক করে দেখো। যদি দরকার হয়ে আপডেট করে নাও। তবে রেজুমিতে যদিও প্রত্যেকটা প্রজেক্ট এর জন্য ৩টা বুলেট পয়েন্ট থাকবে। গিটহাব এ একটু বেশি পয়েন্ট থাকবে। তবে সেখান ইংরেজি ভালোভাবে চেক করে নিও।
.
টাস্ক-৪:
আজকে তোমার হাতে কিছুটা সময় থাকবে। তখন একটু সময় করে তোমার প্রজেক্টগুলা একটু দেখো। বিশেষ করে রেজুমিতে যে প্রজেক্টগুলা দিছো। সেগুলা ঠিক আছে কিনা। হয়তো মেইন কোর্স করার সময় ফাংশনালিটি ঠিক মতো করতে পারো নাই। বা UI ভালো হয় নাই। বা সেখানে ইম্প্রুভ করার অপশন আছে। তাহলে আজকে আবার সেই প্রজেক্ট নিয়ে বসে পড়ো। যতক্ষণ পারো সময় দাও। আগে UI টা ভালো করার চেষ্টা করো। তারপর ফাংশনালিটি এর দিকে জোর দিবে।
কারণ রেজুমি মোটামুটি ভালো লাগলে। একজন পটেনশিয়াল এমপ্লয়ার তোমার প্রজেক্ট দেখতে চাইবে। সেখানে সবার আগে সে সাইট নেড়ে ছেড়ে দেখবে। ভালো লাগলে তারপর কোড দেখবে। তাই রেজুমি এর প্রজেক্টগুলা যেন ভালো হয়। সেদিকে গুরুত্ব দিবে।
.
টাস্ক-৫:
ডেভেলপারদের পোর্টফোলিও সাইট বলতে একটা জিনিস আছে। তোমার সেই সাইট আজকে বানিয়ে ফেলতে হবে না। তারপরেও অনলাইন ঘেঁটে গুগল এ সার্চ দিয়ে তোমার পছন্দের কিছু পোর্টফোলিও খুঁজে বের করো। দরকার হলে web developer portfolio বা programmer portfolio বা developer portfolioবা React developer portfolioবা front end developer portfolioবা full-stack developer portfolio বা personal portfolio লিখে সার্চ দিয়ে অনেকগুলা অপশন দেখে একটা খুঁজে বের করো। গুগলে সার্চ দিয়ে সুবিধা করতে না পারলে themeforest এ গিয়ে সার্চ দিয়ে দাও। সেখানে শত শত পোর্টফোলিও এর উদাহরণ আছে সেখান থেকে ২-৩ টা সিলেক্ট করো।
আজকে জাস্ট লিস্ট করে রাখো। দরকার হলে লিংকগুলা বুকমার্ক করে রাখো। বা কোথাও সেইভ করে রাখো। দুই একদিন পরে কাজে লাগবে।
.
আজকে কি সাবমিট করবে?
আগামীকাল রাত ১১.৫৯ এর মধ্যে আমাদের ওয়েবসাইট এ এসাইনমেন্ট হিসেবে দুইটা জিনিস সাবমিট করবে
১. তোমার ফাইনাল রেজুমি এর লিংক সাবমিট করতে হবে। সাবমিট করার সময় তোমার রেজুমি এর পিডিএফ ফাইল গুগল ড্রাইভ এ রেখে রিড একসেস দিয়ে দিতে হবে। দরকার হলে লিংক কপি করে তারপর ইনকগনিটো মুডে চেক করবে। যদি লিংক কাজ না করে তাহলে তোমার এই টাস্ক কমপ্লিট হয় নাই বলে ধরা হবে। দরকার হলে তিনবার লিংক চেক করে দিবে। লিংক কাজ না করলে বা ওপেন না হলে কিন্তু মার্কস এক্সট্রা মার্ক্স্ কাটা যাবে।
২. তুমি রেজুমি পাঠানোর জন্য ইমেইল লিখবে সেই ইমেইল এর সাবজেক্ট এবং ভিতরের কথাবার্তা (ইংরেজিতে) সেটা লিখে দিবে। এই কথাবার্তাগুলো এর ইংরেজি ঠিক আছে কিনা। সেটা grammarly দিয়ে অবশ্যই চেক করে নিবে। জাস্ট আমাদের এসাইনমেন্ট সাবমিট করার বক্স এর মধ্যে কথাগুলো বসিয়ে দিবে। ভুলেও অন্য কোথাও থেকে ডাইরেক্ট বসিয়ে দিবে না। বরং তোমার মতো করে মোডিফাই করে সেটা লিখে দিবে। এই জিনিসটা ফিউচারে অনেক অনেক কাজে লাগবে। সো, এখন দরকার হলে একটু বাড়তি কষ্ট করো।
.
সাবাস !
আজকে একটু কষ্ট করলে। তোমার রেজুমি দাঁড়িয়ে যাবে। রেজুমি কিভাবে পাঠাতে হবে সেটারও একটা সিস্টেম দাঁড়িয়ে যাবে।
আরেব্বাহ।